কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বলুগ্রাম খাল,গোপালগঞ্জ।
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজলার মহেশপুর ইউনিয়নের বলুগ্রামে সরকারি খালে আড়াআড়ি বাঁশের বেড়া, বানা ও সুতিজাল দিয় মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে।
এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ও যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে । পাশাপাশি নির্বিচারে দেশি প্রজাতির মাছের পোনা, শামুক ঝিনুক নিধন এবং মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বলুগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকায় ফিরাজ মোল্যার বাড়ি সংলগ্ন খালে প্রভাবশালী বিশু শেখ আড়াআড়িভাবে বাঁশের বেড়া ও বানা দিয়ে সুতিজাল স্থাপন করেছেন। খালের এক পাশ থেকে অপর পাশ পর্যন্ত তৈরি করা এ বেড়ার কারণে মাছের পাশাপাশি পানির স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খালের মধ্যে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করায় উন্মুক্ত মাছ শিকারের সুযাগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার দরিদ্র জেলেরা। একই সাথে খালের পানি ও মাছের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়েছে । এতে এলাকার বিল ও জলাশয়ে মাছের বিচরণ এবং বংশবিস্তার বাধাগ্রস্থ যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়ে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলেরা জানান, খালের মাধ্যমে বর্ষাকালে বিল ও জলাভূমিতে দেশীয় জাতের মাছ প্রবেশ করে এবং বংশবিস্তার করে। শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে গেলে এসব মাছ পুনরায় খালে আশ্রয় নেয়। বর্তমান খালের মধ্য বাঁশের বেড়া দিয়ে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্থের পাশাপাশি দেশি প্রজাতির ছোট-বড় মাছ ও পোনা নিধন করায় মাছের প্রজনন এবং প্রাকৃতিক বিচরণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে মাছ ও জলজ জীববচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। আগামীতে এ অঞ্চল দেশী প্রজাতির মাছের প্রাপ্যতা আরও কমে যেতে পারে।
এ বিষয় অভিযুক্ত বিশু শেখের সাথে কথা হলে তিনি খালে বাঁশের বেড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলন, ‘আমি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার সাথে কথা বলেই এটা করেছি। জালে বড় মাছ ধরা পড়ে না। শুধু ছোট ছোট পুঁটি মাছ ধরা পড়ছে । এতে দৈনিক ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মাছ বিক্রি করতে পারি।’
কাশিয়ানী উপজলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আসলাম হোসেন শেখ বলেন, ‘খালের মধ্যে আড়াআড়ি বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যম অভিযান চালিয়ে খালের বাঁধ অপসারণ করবো।’
