বর্তমানে বাংলাদেশ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে অবস্থান করছে। শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে দেশের অর্থনীতি যেমন এগিযয়ে যাচ্ছে, তেমনি পরিবেশ দূষণের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। বায়ু, পানি ও মাটির দূষণ আমাদের জীবনযাত্রাকে ক্রমেই হুমকির মুখে ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ উপহার দিতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। প্রথমেই আমাদের যে বিষয়টিতে নজর দিতে হবে তা হলো জনসচেতনতা। মানুষ যদি পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন হয়, তবে তারা নিজেরাই অনেক ক্ষেত্রে দূষণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারবে। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে নিয়মিত প্রচারণা চালাতে হবে।
পরিবেশ দূষণ কমানোর জন্য শিল্পকারখানা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অনেক কারখানা এখনো অপরিশোধিত বর্জ্য নদী বা খালে ফেলে, যা পানিদূষণের প্রধান কারণ। প্রতিটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং তার কার্যকারিতা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। পরিবেশ দূষণ কমাতে হলে বায়ু দূষণ কমাতে হবে। বর্তমানে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পুরনো যানবাহন, ইটভাটা এবং নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধুলাবালি এর প্রধান উৎস। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার, পুরনো যানবাহন অপসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা চালু করার মাধ্যমে বায়ু দূষণ কমাতে হবে।
এছাড়া পরিবেশ দূষণ কমাতে হলে বৃক্ষরোপণের পরিমান বাড়াতে হবে। গাছপালা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং বন উজাড় বন্ধ করতে হবে। শহরাঞ্চলে পার্ক, উন্মুক্ত স্থান এবং ছাদবাগান বাড়ানোর মাধ্যমে সবুজায়ন বৃদ্ধি করতে হবে। পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যাবহার বাড়াতে হবে। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমবে, যা পরিবেশ দূষণ কমাতে সহায়ক হবে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
পরিবেশ দূষণ কমাতে পরিবেশ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। দূষণকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, দূষণমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তবে আমরা যদি এখন থেকেই সম্মিলিতভাবে কাজ শুরু করি, তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সুস্থ ও বাসযোগ্য দেশ রেখে যেতে পারব। সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে।


