বাগেরহাটের বিশ্বঐতিহ্য ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত এই প্রধান জামায়াতে সাধারণ মুসল্লিদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও রাজনৈতিক নেতা এমএ সালাম।
ঈদের প্রথম জামাতে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালামের পাশাপাশি বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনসহ রাজনৈতিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং দুই সহস্রাধিক সাধারণ মুসল্লি অংশ নেন। জামায়াতে ইমামতি করেন হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো. খালিদ।
নামাজ শেষে বিএনপি নেতা এমএ সালাম উপস্থিত মুসল্লি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় এক তাৎক্ষণিক ও জোরালো বক্তব্যে তিনি বাগেরহাটের চিরন্তন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ টেনে বলেন, “বিশেষ করে বাগেরহাটে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—কোনো ভেদাভেদ নাই। আমরা সবাইকে নিয়ে একসাথে সহাবস্থান করি। আমাদের এই বাংলাদেশে কোনো ধরনের অন্যায়, অত্যাচার বা হিন্দুদের ওপরে কোনো জুলুম আমরা করি নাই।”
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে এমএ সালাম বলেন, “ইন্ডিয়াতে এই কিছুদিন আগে একটি নির্বাচনের পরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, আজেবাজে কথা বলা হচ্ছে এবং মুসলমান ভাইদের ওপরে অত্যাচার-জুলুম হচ্ছে সেখানে। এটির আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। ইন্ডিয়াতে যা হচ্ছে, এটা আসলে আমরা সহজভাবে নিতে পারছি না।”
অনতিবিলম্বে এই নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়ে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “অতিসত্তর সেই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কাছে আমরা অনুরোধ করি, সেই রাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম বন্ধ করার জন্য। তা না হলে বাংলাদেশের জনগণ—আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে কথা বলছেন এবং আগামীতেও বলবেন—আমরা চুপ থাকবো না। ইনশাল্লাহ এর সুষ্ঠু বিচার চাই। বিচার না করলে বাংলাদেশের জনগণ এর বিরুদ্ধে কথা বলবে।”
বিশ্ব ঐতিহ্যের এই মসজিদে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের নির্বিঘ্ন নামাজ আদায় নিশ্চিত করতে পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখেন।
এছাড়া বাগেরহাট পুরাতন কোর্ট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, আলীয়া মাদরাসা জামে মসজিদ, কালেক্টরেট জামে মসজিদ, হরিণখানা জামে মসজিদ, সরকারি পিসি কলেজ জামে মসজিদ, খানজাহান আলী (রহ) এর মাজার-দরহা জামে মসজিদ, নাগের বাজার হাজী আরিফ জামে মসজিদ, সড়ক ও জনপথ জামে মসজিদ, সরুই মাদরাসা জামে মসজিদসহ জেলা শহর ও উপজেলা সদরের বেশিরভাগ জামে মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদ-উল-আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

