
ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা কেবল অবকাঠামোতেই নয়, আমাদের শরীর ও মনেও তীব্র প্রভাব ফেলে। কম্পন থেমে যাওয়ার পরও অনেকে মাথা ঘোরা, শরীর হঠাৎ দুলে ওঠা বা চারপাশের সবকিছু অস্বাভাবিক লাগার মতো সমস্যা অনুভব করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে ইকেলেনজিয়া বা আর্থকোয়েক সিকনেস বলা হয়।
ভূমিকম্পের সময় আমাদের চোখ, কান এবং শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গগুলো (ভেস্টিবুলার সিস্টেম) একসঙ্গে অতিরিক্ত সতর্ক বা ‘অ্যালার্ট মোডে’ চলে যায়। কম্পন থেমে গেলেও মস্তিষ্ক সেই স্মৃতি ধরে রাখে, ফলে মাথা ঘোরা এবং দুর্বলতা অনুভূত হয়।
ভারসাম্য ব্যবস্থার বিভ্রান্তি ও হরমোনের প্রভাব
মাথা ঘোরার পেছনে মূলত চারটি কারণ রয়েছে:
১. দেহের ভারসাম্য-ব্যবস্থার বিভ্রান্তি: ইউনিভার্সিটি অব টোকিওর ২০২২ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় আমাদের ভেস্টিবুলার সিস্টেম অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে যায়। ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার পরও এই সিস্টেমটি কিছু সময়ের জন্য নিউরনে দুলুনির সংকেত পাঠাতে থাকে, যার ফলে মাথা ঘোরা চলতে থাকে।
২. স্ট্রেস হরমোনের বৃদ্ধি: স্ট্যানফোর্ড সাইকোলজি ল্যাবের তথ্যমতে, বিপদ বা আতঙ্কের মুহূর্তে শরীরে দ্রুত করটিসল হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এই স্ট্রেস হরমোনের আধিক্য থেকেই মাথা ঝিম ঝিম লাগা, মাথা ঘোরা ও বমিভাব দেখা দিতে পারে।
৩. ফ্যান্টম মোশন বা মিথ্যা অনুভূতি: নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার-এ প্রকাশিত ২০২৩ সালের একটি গবেষণা বলছে, দীর্ঘ সময় কম্পনের ভেতর থাকার ফলে মস্তিষ্ক সেই নড়াচড়াকেই বাস্তব বলে ধরে নেয়। ফলে কম্পন থেমে যাওয়ার পরও শরীর হালকা দুলতে থাকার একটি ‘ফ্যান্টম মোশন’ বা মিথ্যা অনুভূতি হয়।
৪. হাইপার-অওয়ারনেস: ভূমিকম্পের পর বাস্তবে কম্পন না থাকলেও মনে উদ্বেগ থাকে। এই উদ্বেগের কারণেও মাথা হালকা লাগা বা হাঁটতে অসুবিধা হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
এই মাথা ঘোরা সাধারণত শরীরের এক স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এবং ১০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে কমে যায়। এসময় বিশ্রাম নেওয়া বা পানি পান করলে দ্রুত শরীর ঠিক হয়। তবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


