আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনে নির্বাচনি উত্তাপ এখন তুঙ্গে। মিরপুর, কাফরুল, আগারগাঁও, শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়াসহ অত্র এলাকায় বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের পক্ষে ধানের শীষের প্রচারণায় ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘ সময় পর এলাকায় নির্বাচনি আমেজ ফিরে এসেছে এবং সুষ্ঠু ভোট হলে এই আসনে ধানের শীষের পক্ষেই গণজোয়ার তৈরি হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গণসংযোগ করেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। এসময় তার সাথে কেন্দ্রীয় ও মহানগর ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। মিরপুর মডেল থানার আংশিকসহ কাফরুল থানা এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই জনবহুল আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
গণসংযোগকালে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, “১৯৯১ সালে এই আসন থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার সময়কালে এলাকায় যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল, ২০০১ সালে বিএনপির জয়ের পর সেই ধারা অব্যাহত ছিল। কিন্তু এরপর দীর্ঘ ১৬ বছর সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি এবং এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়নও হয়নি।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই আসনেই আমার জন্ম। বহিরাগত প্রার্থীর বদলে এলাকার সন্তান হিসেবে স্থানীয়দের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা বেশি। নির্বাচিত হলে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে ঢাকা-১৫ আসনকে একটি মডেল আসনে রূপান্তর করব।”
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ কাজ করছে। ভোটাররা জানান, তারা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতীক্ষায় আছেন যেখানে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৪ জন ভোটারের এই আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে তরুণ ও সাধারণ ভোটাররাই মূল ভূমিকা পালন করবেন।
প্রার্থী মিল্টন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে দিনের ভোট রাতে হওয়ার সংস্কৃতি এবার থাকবে না। সাধারণ নাগরিকরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনবে—এমনটাই তার প্রত্যাশা।


