
রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ অংশের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ সময় আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে থাকার পর, এই প্রথম রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ‘প্রশাসক’ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। তিনি কেবল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক নন, বরং অবিভক্ত ঢাকার সাবেক ডেপুটি মেয়র হিসেবে নগর ব্যবস্থাপনার প্রতিটি অলিগলি যাঁর নখদর্পণে। পূর্ণ মন্ত্রী পদমর্যাদায় দায়িত্ব গ্রহণের পর, নগরবাসীর প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে।

কেমন হবে আগামীর ঢাকা? ডেঙ্গুর বিভীষিকা, যানজটের স্থবিরতা আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মান্ধাতা আমল থেকে উত্তরণের পথই বা কী? এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ‘নোটো পোষ্ট’-এর মুখোমুখি হয়েছিলেন নবনিযুক্ত এই প্রশাসক। আমাদের অতিথি প্রতিবেদক এম আর জান্নাত স্বপন’র সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি অকপটে তুলে ধরেছেন তাঁর সাহসী পরিকল্পনার কথা।
মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে নগর সেবার ময়দান—আব্দুস সালামের কণ্ঠে ঝরেছে অদম্য প্রত্যয়। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। বর্জ্য সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ আদায় থেকে শুরু করে মশা নিধনে বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’—প্রতিটি বিষয়েই তাঁর রয়েছে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ। ঢাকার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী গড়ার সেই মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত থাকছে আজকের এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে।

ডিএসসিসি প্রশাসকের ৫টি মহাপরিকল্পনা
১. মশা নিধনে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’: ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে এক সপ্তাহের বিশেষ অভিযান এবং শতভাগ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা।
২. বর্জ্য সংগ্রহে কড়াকড়ি: বাসা-বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে ১০০ টাকার বেশি ফি নিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লাইসেন্স সরাসরি বাতিল।
৩. অপরাধে জিরো টলারেন্স: সিটি করপোরেশনের ভেতরে ও বাইরে চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট এবং মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস নেই।
৪. হকার পুনর্বাসন: ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিকেল ৫টার পর হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা।
৫. ঐতিহ্য ও পরিবেশ: পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক নিদর্শন রক্ষা এবং বায়ুদূষণ কমাতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি (গ্রিন সিটি)।
নোটো পোষ্ট: আপনি অবিভক্ত ঢাকার ডেপুটি মেয়র ছিলেন, দীর্ঘ সময় পর এবার পূর্ণ মন্ত্রী পদমর্যাদায় দক্ষিণ সিটির ‘প্রশাসক’ হিসেবে ফিরলেন। আপনার এই বিশাল অভিজ্ঞতা বর্তমান ঢাকার স্থবিরতা কাটাতে কতটা সহায়ক হবে? রণাঙ্গনের সেই অদম্য চেতনা নিয়ে এই বয়সে নগর সেবাকে আপনি কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন?
মো. আব্দুস সালাম: জীবনে সবকিছুই চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেই নিজের জীবনের ভিত্তি গড়তে হয়। আমি যখন মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম, সেটাও একটা চ্যালেঞ্জ ছিল—পাক বাহিনীকে পরাস্ত করে দেশকে স্বাধীন করা। সেই বয়সে যদি জয়লাভ করতে পারি, তবে এই বয়সে জয়ী হতে পারব না, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। ঢাকা সিটির জন্মলগ্ন থেকে আমি এখানে আছি, মহানগরীর প্রতিটা অলিগলি আমার চেনা। আল্লাহ যদি সহায়তা করেন, তবে অভিজ্ঞতার আলোকে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
নোটো পোষ্ট: বর্তমান ঢাকার প্রধান আতঙ্ক মশা ও ডেঙ্গু। এই সংকট সমাধানে আপনার বিশেষ কোনো ‘স্পেশাল ক্রাশ প্রোগ্রাম’ বা আধুনিক পরিকল্পনা আছে কি?
মো. আব্দুস সালাম: দেখুন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাকে মহানগরীর দায়িত্ব দিয়েছেন। কারণ, মহানগরী অভিভাবকহীন ছিল এবং সবকিছু ভেঙে পড়েছিল। এই অগোছালো অবস্থাকে নিয়মের মধ্যে ফিরিয়ে আনাই এখন বড় কাজ। আমরা চেষ্টা করছি ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়তে। তবে মশা নিধন বা পরিচ্ছন্নতা কেবল সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। যদি জনগণ সচেতন না হয়, তবে সফলতা আসবে না। আমি মনে করি, ৫০% কাজ করবে করপোরেশন আর বাকি ৫০% সচেতনতা আসতে হবে জনগণের কাছ থেকে। আমরা শীঘ্রই মশা নিধনে এক সপ্তাহের ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ ও বড় ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করছি।
নোটো পোষ্ট: সামনেই বর্ষা মৌসুম। জলাবদ্ধতা নিরসনে আপনার তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা কী?
মো. আব্দুস সালাম: মশা থেকে বাঁচতে হলে নালা-নর্দমা পরিষ্কারের বিকল্প নেই। বিশেষ করে আন্ডারগ্রাউন্ড নালাগুলো বছরের পর বছর পরিষ্কার না হওয়ায় সেখানে মশার উৎপাদন বেশি হয়। এটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। বর্তমানে করপোরেশনের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়, তারপরও আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি—ওনার সহযোগিতা পেলে আমরা বর্ষার আগেই নালা-নর্দমা পরিষ্কারে একটি বড় ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেব।
নোটো পোষ্ট: আপনি দায়িত্ব নিয়েই সন্ত্রাসমুক্ত ঢাকার ঘোষণা দিয়েছেন। করপোরেশনের ভেতরের ‘সিন্ডিকেট’ দমনে আপনি কতটা কঠোর হবেন?
মো. আব্দুস সালাম: এ ব্যাপারে আমি ১০০% কঠোর। আমরা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার বলে দিয়েছেন—এ ব্যাপারে কোনো আপস নেই। অপরাধী দলের লোক হোক বা বাইরের, সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। পাশাপাশি ঢাকাকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
নোটো পোষ্ট: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও দুর্নীতি কমাতে ডিজিটাল পদক্ষেপ নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
মো. আব্দুস সালাম: সিটি করপোরেশনের সব কার্যক্রমই পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল হচ্ছে। এখন সবকিছু জনগণের চোখের সামনে পরিষ্কার। লুকোচুরি করার কোনো সুযোগ নেই। নাগরিক সেবাগুলো যত বেশি উন্মুক্ত হবে, দুর্নীতি তত কমবে।
নোটো পোষ্ট: ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো মান্ধাতা আমলের। এটি আধুনিকায়নের কোনো রোডম্যাপ আছে কি?
মো. আব্দুস সালাম: আমাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মূল সমস্যা হলো বর্জ্য পৃথকীকরণ (রিসাইক্লেবল ও নন-রিসাইক্লেবল) না করা। এছাড়া ডাম্পিং স্টেশনের অভাবও একটি বড় সংকট। অনেক সময় বর্জ্য পোড়ানোর ফলে বায়ুদূষণ ও দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়, যা মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়। আমরা ইতিমধ্যে বিদেশী সাহায্যকারী সংস্থাগুলোর সাথে কথা বলছি যাতে বর্জ্য রিসাইক্লিং করে সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
নোটো পোষ্ট: আপনি ঘোষণা দিয়েছেন বর্জ্য সংগ্রহে ১০০ টাকার বেশি নিলে ঠিকাদারের অনুমোদন বাতিল হবে। এ বিষয়ে কিছু বলুন।
মো. আব্দুস সালাম: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের লুটপাটের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। আমি শুনেছি, জনগণের ওপর জোর করে অতিরিক্ত ফি চাপিয়ে দেওয়া হয়। আমরা কঠোরভাবে জানিয়ে দিয়েছি, সিটি করপোরেশন নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি কোনো পরিবার থেকে নেওয়া যাবে না। নিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোটো পোষ্ট: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা ঢাকাকে শীতল ও সবুজ রাখতে আপনার পরিকল্পনা কী?
মো. আব্দুস সালাম: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা মহানগরীতেও তা বাস্তবায়ন করব। এছাড়া পুরান ঢাকার একটি বিশাল ঐতিহ্য আছে যা আমরা হারিয়ে ফেলছি। আমি এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। পুরান ঢাকাবাসী যদি সহযোগিতা করে, তবে আমরা আধুনিকতার সাথে ঐতিহ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে একে সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়তে পারব।
নোটো পোষ্ট: ওয়াসা বা রাজউকের মতো সংস্থাগুলোর সাথে দীর্ঘদিনের ‘সমন্বয়হীনতা’ কাটাতে আপনার কৌশল কী?
মো. আব্দুস সালাম: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমাকে প্রধান করে একটি সমন্বয় কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। সকল সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে আছেন। শীঘ্রই আমাদের মিটিং হবে। সমন্বয়হীনতার কারণে দেখা যায় সিটি করপোরেশন রাস্তা বানায় আর রাজউক বা টিএনটি এসে তা কাটে। আমি মনে করি, নগরের সকল সংস্থা যদি ‘নগর সরকার’ বা মেয়র/প্রশাসকের অধীনে থাকে, তবেই সুশৃঙ্খল কাজ সম্ভব।
নোটো পোষ্ট: কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে আপনার বার্তা কী?
মো. আব্দুস সালাম: পরিষ্কার কথা—জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কর্মকর্তাদের বেতন হয়। তাই জনগণের সেবা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক বাতি বা রাস্তা ঠিক না থাকলে নাগরিকরা কেন ট্যাক্স দেবে? কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বলে দিয়েছি, জিরো টলারেন্স বজায় থাকবে। যার যা দায়িত্ব, তা সময়মতো পালন করতে হবে।
নোটো পোষ্ট: প্রশাসক হিসেবে আপনার মেয়াদে দক্ষিণ ঢাকাবাসীর জন্য সবথেকে বড় ‘উপহার’ বা ‘চমক’ কী হতে পারে?
মো. আব্দুস সালাম: যদি মশা নিয়ন্ত্রণ, ক্লিন ও গ্রিন ঢাকা নিশ্চিত করতে পারি এবং বেদখল হওয়া খেলার মাঠগুলো উদ্ধার করে যুবসমাজের জন্য উন্মুক্ত করতে পারি, তবে সেটিই হবে বড় চমক। মাদকমুক্ত সমাজ ও বাসযোগ্য শহরই হবে আমার উপহার।
নোটো পোষ্ট: এই পদে আগে আমলারা থাকলেও এবার রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কেন? আপনার কি ভবিষ্যতে মেয়র হিসেবে নির্বাচন করার পরিকল্পনা আছে?
মো. আব্দুস সালাম: আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্য। আমলাদের চেয়ে জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা জনগণের কাছে বেশি থাকে। কারণ আমাদের পরবর্তী নির্বাচনে জয়ের জন্য ভালো কাজ করতে হবে। ঢাকা শহর অভিভাবকহীন থাকায় কাজের কোনো গতি ছিল না। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি অবশ্যই ভালো কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে চাই।
নোটো পোষ্ট: হকার সমস্যা ও ফুটপাত দখল নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মো. আব্দুস সালাম: হকারদেরও তো বাঁচতে হবে। তবে সব রাস্তা দখল করে নয়। আমরা কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করে দেব যেখানে বিকেল ৫টার পর তারা বসতে পারবে। ঈদের পর আমরা এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট এবং সিরিয়াস ক্রাশ প্রোগ্রামে যাব, যাতে নাগরিক সুবিধা এবং হকারদের জীবিকা দুটির মধ্যে সমন্বয় করা যায়।
নোটো পোষ্ট: দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন সরকারের অবস্থান কী?
মো. আব্দুস সালাম: দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের নেতার (প্রধানমন্ত্রী) অবস্থান জিরো টলারেন্স। তিনি নিজের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দিয়েছেন, ছুটির দিনেও কাজ করছেন। আমাদেরও তাই করতে হচ্ছে। দুর্নীতির সাথে কোনো আপস নেই; যারা দুর্নীতি করবে, তাদের আইনের আওতায় যেতেই হবে।
নোটো পোষ্ট: সবশেষে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
মো. আব্দুস সালাম: আমি চাই ঈদের পর ঢাকাকে একটি সুশৃঙ্খল নিয়মের মধ্যে আনতে। কর্মজীবী, শ্রমজীবীসহ সকল নগরবাসীর সহযোগিতা চাই। নাগরিক জীবন যাতে স্থবির না হয়, সেজন্য ট্রাফিক সমস্যা সমাধানেও আপনাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি দায়িত্ব নিয়েছি আপনাদের জন্য, আপনাদের সুচিন্তিত পরামর্শ পেলে আমরা নিশ্চয়ই সফল হবো।
আশার আলো ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালামের এই সাক্ষাৎকারটি কেবল কতগুলো প্রতিশ্রুতির সংকলন নয়, বরং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে বড় বড় চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব। বিশেষ করে বর্জ্য সংগ্রহে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ঘোষণা এবং হকার পুনর্বাসনে মানবিক ও সুশৃঙ্খল পদক্ষেপের পরিকল্পনা নগরবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
তবে ১৭ বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যা, ভঙ্গুর প্রশাসনিক কাঠামো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা। রণাঙ্গনের এক অকুতোভয় সৈনিক যখন নগর পিতার দায়িত্বে, তখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে রাজধানী ঢাকা সত্যিই একটি ‘ক্লিন ও গ্রিন’ সিটিতে রূপান্তরিত হবে। এখন দেখার বিষয়, সময়ের পরীক্ষায় এই মহাপরিকল্পনাগুলো কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।


