
উত্তর-পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোর মধ্যে নাগাল্যান্ড সবসময়ই তার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি আর সংগ্রামের ইতিহাসের জন্য আমার কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। এমনই এক কিংবদন্তি আর সৌন্দর্যের আধার হলো খোনোমা গ্রাম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার ফিট উচ্চতায় অবস্থিত এই অনিন্দ্য সুন্দর গ্রামটি নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে।
খোনোমা গ্রামটি পুরোটা পাহাড়ের উপরে অবস্থিত। সেখানে পৌঁছনোর পথেই চোখে পড়ে সুবিশাল পাহাড়ের সারি আর নিচে দুই পাহাড়ের মাঝের উপত্যকায় রাইস ট্যারাস বা ধাপ-ধাপ করে তৈরি ধানক্ষেত। এই ক্ষেতগুলোতে পাহাড়ি ঝিরির পানি সুবিন্যস্তভাবে সরবরাহ করা হয়। জুন-জুলাই মাসে যখন সারি সারি ধানের ক্ষেত সবুজে ভরে ওঠে, তখন সেই দৃশ্য যেকোনো পর্যটকের চোখ জুড়িয়ে দেবে।
ইতিহাস আর বীরত্বের গাঁথা
খোনোমা একটি ৭০০ বছরের পুরোনো গ্রাম, যেখানে আঙ্গামী উপজাতিদের বসবাস। পুরুষদের বীরত্বগাথার ইতিহাস এই গ্রামের পরতে পরতে মিশে আছে। প্রাচীনকালে এই জনজাতির মধ্যে শিকার এবং একসময় মানুষের মাথা শিকারের মতো প্রথা প্রচলিত ছিল, যা এখন কেবলই কিংবদন্তি। এই গ্রামটি ২০০৫ সালে এশিয়ার প্রথম ‘গ্রিন ভিলেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়, যা তাদের পরিবেশ সচেতনতার প্রতীক।
তবে খোনোমার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তাদের হাজার বছরের যুদ্ধ ও সংগ্রামের ইতিহাস। ব্রিটিশদের নিয়মিত আক্রমণ থেকে গ্রামকে রক্ষা করতে গ্রামবাসীর নির্মিত তিনটি দুর্গ ও খোনোমা গেট আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ইংরেজদের আধুনিক অস্ত্রের মুখেও তারা স্থানীয় সেকেলে অস্ত্র দিয়ে যে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক অনন্য নজির। এই বীরত্বগাঁথা খোনোমাবাসীকে এক অন্য মর্যাদায় নিয়ে গেছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং এখানকার মানুষের অসাধারণ আতিথেয়তা, সব মিলিয়ে খোনোমা সত্যিই এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।


