
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার বহু দশক ধরে চলমান সীমান্ত উত্তেজনা আবারও ভয়াবহ সামরিক সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে ছয় সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও সার্বভৌমত্ব হুমকির অভিযোগ তোলায় অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের ৯ ডিসেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ এই সংঘর্ষে কম্বোডিয়ায় অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে থাইল্যান্ড জানিয়েছে, তাদের তিনজন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। গত জুলাই মাসের টানা পাঁচদিনের যুদ্ধের পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী লড়াই।

কম্বোডিয়ার সিনেট প্রেসিডেন্ট হুন সেন ফেসবুকে লিখেছেন, “কম্বোডিয়া শান্তি চায়, তবে ভূখণ্ড রক্ষায় পাল্টা আঘাত হানতেই হবে।” তিনি দাবি করেন, তাদের হাতে আধুনিক অস্ত্র ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এর বিপরীতে থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান্ত কংসিরি বলেন, প্রয়োজন হলে সীমান্ত রক্ষায় পূর্ণ সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হবে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল আরও কঠোর ভাষায় জানান, এখন আর সংলাপ নয়; সংঘর্ষ থামাতে হলে কম্বোডিয়াকে শর্ত মেনেই এগোতে হবে। অন্যদিকে কম্বোডিয়া অভিযোগ করেছে, থাইল্যান্ড বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়ে ঐতিহাসিক স্থাপনা বিধ্বস্ত করছে।

এই সংঘর্ষের কারণে থাইল্যান্ডের চারটি প্রদেশের প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ এবং কম্বোডিয়ার তিনটি প্রদেশের ২১ হাজারেরও বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
থাই–কাম্বোডিয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়া। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ হাসান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ২৮ জুলাইয়ের যুদ্ধবিরতিচুক্তির সপ্তম অনুচ্ছেদ মেনে বিরোধ সমাধানে তাৎক্ষণিক সংলাপে ফেরার পরামর্শ দেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমও সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসিয়ানের সদস্য হিসেবে উভয় দেশের সম্পর্ক ভেঙে পড়ার সুযোগ নেই এবং সংলাপই সমাধানের একমাত্র পথ।


