মালয়েশিয়ার সেলাংগর রাজ্যের সেমেন্যিহ ও কাজাং এলাকায় পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ।বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি অভিবাসন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবৈধভাবে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগে শিল্প এলাকা ও নির্মাণস্থলকে লক্ষ্য করে ৭ জানুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে এই সমন্বিত প্রয়োগ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রথমে সেলাঙ্গরের সেমেন্যিহ শিল্পাঞ্চলের চারটি প্রাঙ্গণে অভিযান চালানো হয়। পরে কাজাংয়ের সুংগাই লং এলাকার একটি নির্মাণস্থলে অভিযান চালানো হয়।
দুই সপ্তাহের জনসাধারণের অভিযোগ ও পুত্রজায়ায় অবস্থিত অভিবাসন সদর দপ্তরের প্রয়োগ শাখার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বিভিন্ন পদমর্যাদার ১১০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করে মালয়েশিয়ার কোম্পানি কমিশন (এসএসএম), জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) এবং শ্রম বিভাগ (জেটিকে)।
অভিযান চলাকালে মোট ২১৬ জন ব্যক্তির কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ১৮৯ জন বিদেশি নাগরিক এবং ২৭ জন স্থানীয় নাগরিক ছিলেন। যাচাই শেষে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়ার ১৭১ জন নাগরিককে আটক করা হয়। আটককৃতদের বয়স ২৯ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।
অভিবাসন বিভাগ জানায়, আটক ব্যক্তিরা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ (আইন ১৫৫) অনুযায়ী একাধিক ধারা লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে অবৈধভাবে অবস্থান, মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা এবং অনুমোদন ছাড়া কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানে অংশগ্রহণকারী সহযোগী সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে মোট ১৫,০০০ রিঙ্গিত জরিমানা এবং ৫০০ রিঙ্গিতের একটি সমন জারি করেছে। এছাড়া তদন্তে সহায়তার জন্য পাঁচজন মালয়েশীয় নাগরিককে সাক্ষী সমন প্রদান করা হয়।
আটক সব বিদেশি নাগরিককে পরবর্তী তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেমেন্যিহ ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। জেআইএম স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অবৈধভাবে অবস্থান, অতিরিক্ত সময় অবস্থান কিংবা পাসের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসী নিয়োগ ও আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

