কম খরচে ২ দিনের সিঙ্গাপুর ভ্রমণ গল্প

২০২৩ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর। থাইল্যান্ডে তিন দিনের ভ্রমণ শেষে ভিয়েতজেট এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হই। বিকেল ৩ টায় সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রা শুরু করে সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরের জুয়েল চাঙ্গি এয়ারপোর্টে পৌঁছাই।

M R Jannat Swapon is a Bangladeshi journalist
এম আর জান্নাত স্বপন
M R Jannat Swapon is a Bangladeshi journalist
অতিথি প্রতিবেদক
এম আর জান্নাত স্বপন একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। ২০০০ সালে স্কুল জীবন থেকে আঞ্চলিক পত্রিকায় তার সাংবাদিকতা শুরু। তিনি পোশাক শিল্পের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ত্যাগ করে...
- অতিথি প্রতিবেদক
5 Min Read

আসসালামুয়ালাইকুম বন্ধুরা! কথা বলছি এম আর জান্নাত স্বপন, আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি আমার প্রথমবার সিঙ্গাপুর ভ্রমণের কিছু অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তো চলুন, শুরু করা যাক!

২০২৩ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর। থাইল্যান্ডে তিন দিনের ভ্রমণ শেষে  ভিয়েতজেট এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হই। বিকেল ৩ টায় সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রা শুরু করে সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরের জুয়েল চাঙ্গি এয়ারপোর্টে পৌঁছাই।

এখানকার সহজ ইমিগ্রেশন সিস্টেম দেখে অনেক ভালো লাগে।  খুব সহজেই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করি। এরপর মেট্রোতে চলে যাই লিটল ইন্ডিয়ার মোস্তফা সেন্টারের কাছে হোস্টেলে। এটি আমার প্রথম কোনও হোস্টেলে থাকা। এখানে অনেক দেশের মানুষের সাথে পরিচিত হই। তাদের গল্প শুনি। তারপর বেরিয়ে পড়ি  পায়ে হেটে রাতের সিঙ্গাপুর শহর দেখার উদ্দেশ্যে। সিঙ্গাপুরে থাকার জন্য হোটেলের ভাড়াও অনেক অনেক বেশি। তাই, হোস্টেল বেছে নিয়েছিলাম।

বাজেট ট্রাভেলারদের থাকার জন্য লিটেল ইন্ডিয়া এলাকাটি হতে পারে আপনার সেরা চয়েজ। সিঙ্গেল ট্রাভেলারদের জন্য অনেক কম বাজেটে হোস্টেল পাবেন এই লিটেল ইন্ডিয়া এরিয়াতে। কোথায় থাকবেন সেটা আগে থেকে বুকিং দিয়ে আসতে হয়। এটা ইমিগ্রেশন সিস্টেমে নিশ্চিত করতে হয়।

সিঙ্গাপুর। আধুনিক স্থাপত্য শৈলী আর অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বিলাসবহুল দেশ এটি।

১০ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার দিয়ে একটি এমআরটি পাস কিনেছিলাম।  যা দিয়ে বাস এবং মেট্রোতে চড়ে পুরো সিঙ্গাপুর ঘুরেছি। এখানকার গণপরিবহন ব্যবস্থা খুবই উন্নত এবং সময় সাশ্রয়ী। সিঙ্গাপুর দেশটা সব দিক দিয়ে একটু ব্যায়বহুল তাই যাতায়াত ব্যবস্থা ক্ষেত্রে ট্যাক্সি ভাড়া অনেক বেশি।

সিঙ্গাগাপুরে মোবাইল সিম কার্ড কিংবা ইন্টারনেটের প্যাকেজের দাম অনেক বেশি। সোলো ট্রাভেলার হওয়ায় তাই আমি সিম কার্ড কিনিনি। হোস্টেলের ওয়াইফাই ব্যাবহার করেছি। সিম কার্ড যদি ১২ ডলার হয় হাহলে মিনিমাম ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম ৩০ থেকে ৩৫ ডলার।

খাবার-দাবারের জন্য মোহাম্মদি রেস্টুরেন্টে সহ অন্য বেশ কয়েকটি বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টে গিয়েছি। সুস্বাদু সব খাবার চেখে দেখেছি। বিশেষ করে এখানকার সব খাবারই ছিল অসাধারণ। ৪ থেকে ৬  সিঙ্গাপুরি ডলার লাগে একবেলা খেতে।

সিঙ্গাপুরে ৩ প্ল্যাগ চার্জিং সিস্টেম। তাই, মোবাইল ফোনের চার্জার এডাপ্টর কিনতে হয়েছে।   সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিদের জন্য বিখ্যাত এলাকা মোস্তফা সেন্টারেও গিয়েছি। মোস্তফা সেন্টারে অনেক বাংলাদেশির সাথে কথা বলেছি।

সিঙ্গাপুরে কিছুদুর পর পর ৩ টি করে ৩ ধরনের ময়লা ফেলার ট্রাস বিন রয়েছে। এখানে পাখিকে খাবার দিলে কিংবা রাস্তায় ময়লা ফেললে অথবা নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া সিগারেট পান করলে জরিমানা করা হয়। এই নিয়মগুলো শহরটিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করেছে।

সিঙ্গাপুরে ময়লা ফেলা-বিষয়ক আইন কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। যেখানে-সেখানে থুথু ফেলা বা ময়লা ফেলা এখানে অপরাধ। কাজেই লিটারিং করলে শাস্তি হচ্ছে একদিন একটি পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক সেমিনারে অংশ নিতে হবে। এবং পুরো একদিন নির্দিষ্ট এলাকার ঝাড়ুদারের দায়িত্ব নিতে হবে।

সিঙ্গাপুরে সব যায়গায় বড় বড় ক্যামেরা লাগানো আছে। আপনার পুরো গতিবিধি ট্রাক করতে পারে সেখানকার পুলিশ। আমার ধারণা সেখানে কেউ কোণ অপরাধ করলে তাকে ৩০ মিনিটেই ধরে ফেলা সম্ভব।

আমি মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালও ঘুরে দেখেছি। যেখানে বাংলাদেশ থেকে  অনেক বড় রাজনৈতিক নেতা, আমলা ও ব্যবসায়ীরা চিকিৎসা করাতে আসেন। এটি সিঙ্গাপুরের অন্যতম বিখ্যাত হাসপাতাল।

মেট্রোতে সিঙ্গাপুরের অন্যতম আকর্ষণ মারলিয়নে গিয়েছি। রাতের বেলা মেরিনা বে এর চারপাশে শুরু হয় চোখ জুড়ানো লেজার শো।

অরচার্ড রোডে নামীদামী ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে ঘুরেছি। কিছু কেনাকাটা করেছি। এই পশ এলাকাটা এখনো আমার স্মৃতিতে গেঁথে আছে।

অর্চার্ড রোড প্রায় ২.২ কিমি লম্বা একটা রোড। এই রাস্তায় অনেকগুলো আইকনিক শপিং মল আছে। যেমন, অর্চার্ড সেন্ট্রাল, আইওএন অর্চার্ড মল, প্যারাগন শপিং সেন্টার, প্লাজা সিঙ্গাপুরা। এই মলগুলো দেখতেও খুব সুন্দর। দেখার জন্য হলেও আপনার একবার অর্চার্ড রোডে যাওয়া উচিত। পায়ে হেঁটে সব গুলো মলে আমি গিয়েছি। দেখেছি রোলেক্স ঘড়ির শো রুমও।

অর্চার্ড এমআরটি স্টেশনে নেমে আইওএন অর্চার্ড মলে যাওয়া যায়। এটি ৫৬ তলা একটা বিল্ডিং। বিশ্বের বিখ্যাত সব ব্র‍্যান্ডের জিনিস এখানে পাওয়া যায়। এটি সিঙ্গাপুরের একটি আইকনিক শপিং ডেস্টিনেশন।

দুইদিন সিঙ্গাপুরে ঘুরে, উডল্যান্ড চেকপোস্ট দিয়ে জোহরবারু হয়ে বাসে করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হই। এখানেও সহজ দ্রুত ইমেগ্রেশন সিস্টেম। ইগেট ব্যাবহার করে ৩০ সেকেন্টে সিঙ্গাপুর থেকে বের হয়ে যাই মালেশিয়া।

আপনাদের জানিয়ে রাখি সিঙ্গাপুরে পাসপোর্টে কোন সিল দেয়া হয় না। সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন শহর। সিঙ্গাপুরে কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ নেই। তবে, এটি বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশগুলোর মধ্যে একটি।

সিঙ্গাপুর ভ্রমণ আমার জন্য একটি অসাধারণ এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল। এই ভিডিওতে আমি আমার ভ্রমণের কিছু মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ! এর পরের পর্বে আসছে আমার মালয়েশিয়া ভ্রমন গল্প।

সংবাদটি শেয়ার করুন