
সম্প্রতি বাংলাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই জানিয়েছেন যে, একই স্থানে থেকেও তারা কোনো কম্পন টের পাননি। একই সময়, একই জায়গায় অবস্থান করা সত্ত্বেও কেন এই অনুভূতির পার্থক্য হয়, তার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ডিপার্টমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আপনি যে তলায় আছেন তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। উপরের তলায় থাকলে ঝাঁকুনি অনুভব করার সম্ভাবনা বেশি, কিন্তু নিচের তলায় থাকলে কম্পন কম টের পাওয়া যায়।”
ড. হোসেন আরও জানান, ব্যক্তির সংবেদনশীলতাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যারা গতি বা মোশনের প্রতি সংবেদনশীল নন, তারা ভূমিকম্পের কম্পন কম টের পান। এছাড়া, ব্যক্তির শারীরিক কার্যকলাপের অবস্থাও অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। হাঁটা বা রান্না করার মতো কাজে ব্যস্ত থাকলে কম্পন কম অনুভূত হয়, কিন্তু চুপচাপ বসে থাকলে ঝাঁকুনি বেশি টের পাওয়া যায়।
ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয় মূলত পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের টেকটোনিক প্লেটগুলোর নড়াচড়ার কারণে। প্লেটগুলো সরতে সরতে বা ধাক্কা দিতে দিতে ইলাস্টিক এনার্জি জমা করে, যা ফাটলের মাধ্যমে শক্তি হিসেবে বেরিয়ে এলে কম্পন সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশের ভূমিকম্পের অন্যতম প্রধান উৎস হলো ডাউকি ফল্ট, যা শেরপুর থেকে জাফলং হয়ে ভারতের করিমগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া মিয়ানমার, চীন, ভারত ও নেপালের ফল্ট লাইনের কাছাকাছি অবস্থানের কারণেও দেশে ভূমিকম্পপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপের জন্য বর্তমানে মোমেন্ট ম্যাগনিটিউড স্কেল ব্যবহার করা হয়। এই স্কেলে ৭.৮ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। যদিও বাংলাদেশ মাঝারি ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ, তবে পার্শ্ববর্তী বৃহৎ ভূমিকম্পগুলোও দেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সচেতনতা ও প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি।


