
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক সংস্থাটি। নতুন মহাসচিব ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এরই মধ্যে পরবর্তী মহাসচিব নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই পদে মনোনয়ন পাঠানোর জন্য বাংলাদেশসহ ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
📩 মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও নির্দেশিকা
-
নিরাপত্তা পরিষদ এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতিরা সদস্য দেশগুলিকে প্রার্থী মনোনীত করার জন্য এবং আগামী মাসের মধ্যে পদ্ধতির রূপরেখা দেওয়ার জন্য একটি যৌথ চিঠি জারি করেছেন।
-
যোগ্যতা: চিঠিতে বলা হয়েছে, মহাসচিবের নিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি ও ভাষার দক্ষতার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ প্রার্থী খুঁজছেন তারা।
-
মনোনয়ন: প্রার্থীরা একটি রাষ্ট্র বা একাধিক রাষ্ট্রের সমন্বয়ে মনোনীত হতে পারবেন। তাদেরকে একটি ভিশন স্টেটমেন্ট ও অর্থায়নের উৎসের তালিকা জমা দিতে হবে।
-
নারী প্রার্থী: জাতিসংঘের ইতিহাসে এখনো কোনো নারী এই পদে আসেননি। এই বিষয়টি উল্লেখ করে সদস্য দেশগুলোকে নারী প্রার্থী মনোনীত করার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে বিবেচনা করার জন্য জোর দেওয়া হয়েছে।
🗺️ আঞ্চলিক পালা
ঐতিহ্যগতভাবে মহাসচিবের পদটি অঞ্চলভিত্তিক ঘুরে আসে।
-
২০১৬ সালে বর্তমান মহাসচিব গুতেরেস (পর্তুগাল) নির্বাচিত হওয়ার সময় পূর্ব ইউরোপের পালা ছিল।
-
এবার লাতিন আমেরিকার পালা বলেই মনে করা হচ্ছে, যদিও অন্যান্য অঞ্চল থেকেও প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেন বলে কূটনীতিকরা আশা করছেন।
🗣️ প্রকাশ্যে আলোচিত প্রার্থীরা
ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন প্রকাশ্যে প্রার্থীতা ঘোষণার বা তাদের মনোনয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে:
| প্রার্থী | দেশ | বর্তমান/পূর্ববর্তী পদ |
| মিশেল ব্যাচেলেট | চিলি | চিলির সাবেক প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট (দুই দফায়), জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার (২০১৮-২০২২)। |
| রেবেকা গ্রিনস্পান | কোস্টারিকা | কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট, বর্তমানে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (ইউএসিটিএড) মহাসচিব। |
| রাফায়েল গ্রোসি | আর্জেন্টিনা | জাতিসংঘ পরিচালিত আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মহাপরিচালক। |
🗳️ মহাসচিব নির্বাচন পদ্ধতি
-
নিরাপত্তা পরিষদের ভোট: ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ গোপন ব্যালটে ভোট দেবে, যাকে স্ট্র পোল বলা হয়। স্থায়ী পাঁচ সদস্যের (ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন) ঐকমত্যই এখানে মুখ্য।
-
সাধারণ পরিষদের অনুমোদন: নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ পাওয়ার পর সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নিয়োগ অনুমোদন করবে, যা ঐতিহ্যগতভাবে আনুষ্ঠানিকতাই মাত্র। নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচনই জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্ধারণ করে।
স্বচ্ছতা ও সংস্কার
-
ইতিহাসে অনেকটাই অস্বচ্ছ এই প্রক্রিয়া এখন আরও স্বচ্ছ করতে কাজ করছে জাতিসংঘ।
-
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নের সময় তাদের ‘ভিশন স্টেটমেন্ট’ বা কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে এবং তা জনসমক্ষে প্রদর্শিত হবে।
-
স্বার্থের সংঘাত এড়াতে জাতিসংঘের কোনো পদে থাকা প্রার্থীদের নির্বাচনের সময় নিজেদের দায়িত্ব থেকে বিরতি নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।


