
ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি চুক্তিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৩ শতাংশ বেড়ে ৬৩.৩৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি কিছুটা কমে ৬০.০১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
📉 বাজারের অস্থিরতার কারণ
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজার মূলত তিনটি প্রধান কারণে অস্থির:
১. রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা: বিনিয়োগকারীরা রাশিয়ার তেল সরবরাহ ও বাণিজ্য প্রবাহের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। রাশিয়ান প্রধান জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ব্যবসা ছিন্ন করার জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ইতোমধ্যে পার হয়েছে। ২. চীন ও ভারতের আমদানি: পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন ও ভারতের রুশ তেল আমদানি কমে গেছে। এর ফলস্বরূপ, এশিয়ার জলসীমায় জাহাজগুলোতে সংরক্ষিত জ্বালানি তেলের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে জটিলতা বাড়াচ্ছে। ৩. সরবরাহ ও মজুত: * ভারতে রিফাইনারিগুলো রাশিয়ার জ্বালানি তেলের পরিবর্তে এখন মধ্যপ্রাচ্য ও মার্কিন জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। * অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মজুত বেড়েছে, যা দামকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
📈 ওপেক+ এর সিদ্ধান্ত
বিশ্বব্যাপী তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং ওপেক প্লাস (OPEC+) তাদের ডিসেম্বরের তেল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রতিদিন ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল বৃদ্ধি করতে সম্মত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ শঙ্কা:
সর্বোপরি, বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ যথেষ্ট থাকলেও, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানের কার্যক্রম এবং নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ভবিষ্যতের তেলের বাজার অস্থির করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যদিও মজুত বৃদ্ধি ও অন্যান্য উৎসের সরবরাহের কারণে তা এখনো লাগামহীন হয়নি।


