
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ (শহর ও টঙ্গী) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের বিপুল বিজয়ের পর এখন আলোচনার তুঙ্গে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত অধ্যাপক এম এ মান্নানের এই যোগ্য উত্তরসূরিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন শিল্পনগরীর বাসিন্দারা।
নির্বাচন ফলাফল অনুযায়ী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল করিম রনি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ৪৯ হাজার ভোটের এই বিশাল ব্যবধান তৃণমূল রাজনীতিতে তাঁর শক্তিশালী অবস্থানের প্রমাণ দেয়।
স্থানীয়দের মতে, রনি শুধু বাবার পরিচয়ে নয়, বরং নিজস্ব আধুনিক পরিকল্পনা ও তরুণদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। ১৯৯১ সালে তাঁর বাবা অধ্যাপক মান্নান প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এলাকায় যে উন্নয়ন করেছিলেন, জনমনে তা এখনো অম্লান। গাজীপুরের বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক এজিএস আইয়ুর রহমান বলেন, “মান্নান সাহেবের ত্যাগ ও রনির নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের সমন্বয়ই এই বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।”
গাজীপুর দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও যানজট ও দূষণে জর্জরিত। নবনির্বাচিত এমপি রনি ইতিমধ্যেই মেট্রোরেল সম্প্রসারণ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ এবং জয়দেবপুর রেলগেটে ওভারপাস নির্মাণের অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদদের মতে, জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রনির প্রতিনিধিত্ব থাকলে এই মেগাপ্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন সহজ হবে।
মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, “এই বিজয় গাজীপুরবাসীর। দলমত নির্বিশেষে সবার প্রতিনিধি হিসেবে আমি এলাকাকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব।”


