
এবারের আলিকদম অভিযানটা আমার জন্য সত্যি অন্যরকম ছিল। কোনো নির্দিষ্ট ঝরনা বা পাহাড় সামিট করার উদ্দেশ্য ছিল না; আল্টিমেট ডেস্টিনেশন ছিল আইজ্যাক পাড়া—যেখানে খুমী জনগোষ্ঠীর বসবাস। জহির ভাইয়ের কাছে এই পাড়ার দারুণ বর্ণনা শুনেছিলাম, এখানকার মানুষজন নাকি বান্দরবানের অন্য জনগোষ্ঠীর চেয়ে কম সিভিলাইজড হলেও অনেক বেশি অতিথিপরায়ণ।
অভিযান শুরু করলাম আমতলী ঘাট থেকে নৌকায় দুসরী বাজারের দিকে। সেনাবাহিনী সরাসরি দুসরী যাওয়া বন্ধ করে দেওয়ায়, আমরা দুসরীর আগেই নেমে রেশা ঝিরি হয়ে হাজিরাম পাড়ায় গেলাম। এরপর টোয়াইন খাল ধরে পথ চলে পালংক্ষিয়ং ঝরনার আপার স্ট্রিম দেখে সোজা উঠে এলাম রাউমউম পাড়ায়, এবং প্রথম দিনের কঠিন ট্রেকিং শেষে রাত্রিযাপন করলাম রাউং পাড়ায়।
পরের দিন সকালে শুরুতেই এক ধাক্কা! আমাদের গাইড এলিও দা নিজেই আইজ্যাক পাড়ার পথ ভালোভাবে চিনতেন না। রাউং পাড়ার কারবারি দাদার কাছে পথ শুনে বের হলাম বটে, কিন্তু এক ঘণ্টা যেতে না যেতেই পথ ভুল হয়ে গেল। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা চলল ক্রলিং করা পথ ধরে হাঁটা। শরীর ক্ষতবিক্ষত, গাইডও পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।
খানিকক্ষণ গন্তব্যহীন ট্রেকিংয়ের পর আমরা একটা ২১ কিলো কাঁচা রাস্তায় উঠলাম। তখন বোঝা গেল, আমরা আইজ্যাক পাড়ার রুটে নেই, বরং থমুই পাড়া হয়ে ক্রিসতং সামিট করার পথে চলে এসেছি।
পিছনে ফেরার আর উপায় ছিল না। তাই টিমের সবাই মিলে বিধ্বস্ত শরীর নিয়েই সিদ্ধান্ত নিলাম—সামনেই যখন চলে এসেছি, তখন ক্রিসতং সামিট করব! ক্রিসতং জয় করে আমরা খেমচং পাড়ায় রাত কাটালাম। পরদিন সকালে রুংরাং সামিট করে শামুক ঝিড়ি ও টোয়াইন খাল হয়ে দুসরী বাজারে ফিরে এলাম।
আইজ্যাক পাড়ায় পৌঁছানো হলো না বটে, কিন্তু ভুল পথে গিয়েও ক্রিসতং ও রুংরাংয়ের মতো দুটি অসাধারণ চূড়া জয় করার যে অভিজ্ঞতা হলো, তা ছিল অনবদ্য! পরের এক্সপিডিশনে নিশ্চয়ই আইজ্যাক পাড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।


