উত্তরার তুরাগের ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক যুবকের ঘাড় ও শরীর থেকে বিদ্ধ থাকা পাঁচটি টেটা (ধারালো লৌহদণ্ড) সফলভাবে অপসারণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক মারামারিতে গুরুতর আহত ওই যুবকের প্রাণ বাঁচিয়ে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত রোগীর নাম সবুজ (৩৫)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার বাঞ্চারামপুর থানার বাসিন্দা। গ্রামে রাজনৈতিক কারণে গ্রামবাসীদের মধ্যে ঘটা এক মারামারিতে তিনি গুরুতর আহত হন। গতকাল ভোর ৬টায় তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পাঁচটি টেটার মধ্যে একটি ছিল মাথার পেছনের ডান পাশে, মেরুদণ্ডের উপরের অংশের অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থানে এবং বাকি চারটি ছিল কোমর ও হাঁটুর আশপাশে।
অস্ত্রোপচারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন রশিদ। সফল অস্ত্রোপচার শেষে তিনি বলেন, “রোগীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। বিশেষ করে ঘাড় এবং মেরুদণ্ডের সংবেদনশীল অংশে বিদ্ধ টেটাটি সামান্য নড়াচড়া করলেই যেকোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা সফলভাবে সবগুলো টেটা অপসারণ করতে পেরেছি। রোগী এখন আশঙ্কামুক্ত এবং আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।”
ডা. রাহাদ উল ইসলাম, ডা. মাহমুদুল হাসান এবং ডা. সাইমুস শাকিরের সমন্বয়ে গঠিত দল এই সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটি এক নির্মাণশ্রমিকের মস্তিষ্ক থেকে লৌহদণ্ড সফলভাবে অপসারণ করেছিল। এই ধারাবাহিক সফলতার মাধ্যমে ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ট্রমা চিকিৎসায় উত্তরা ও তুরাগ অঞ্চলে এক নির্ভরযোগ্য আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

